খুলনা বৃক্ষমেলার প্রথম সপ্তাহে চারা বিক্রির রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনায় মাসব্যাপী বিভাগীয় বৃক্ষমেলা প্রথম সপ্তাহেই বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। শুরুর দিকে বৈরী আবহাওয়া থাকলেও তা উপেক্ষা করে প্রতিদিন মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় করছেন অসংখ্য বৃক্ষপ্রেমী। দর্শনার্থীদের এই উপচে পড়া ভিড়ের সঙ্গে বেড়েছে চারা বিক্রির পরিমাণ। মেলার প্রথম সপ্তাহেই রেকর্ড চারা বিক্রি হয়েছে। দিন যত গড়াচ্ছে, ক্রেতাদের ভিড় ও চারা বিক্রির পরিমাণ ততই বৃদ্ধি পেয়েছে।

এবারের মেলায় সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগসহ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের মোট ৬২টি স্টল অংশ নিয়েছে। স্টলগুলোতে দেশি চারাগাছের পাশাপাশি জাপানি পার্সিমন, রাম্বুটান, থাই ও ভিয়েতনামি হাইব্রিড কাঁঠাল এবং বাহারি রং ও ডিজাইনের বনসাই ও বাগানবিলাসের মতো আকর্ষণীয় বিদেশি জাতের গাছের সমাহার রয়েছে, যা ক্রেতাদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।

বনবিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে থাকা মোঃ জাকির হোসেন জানান, গত ১১ জুলাই খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে মেলা শুরু হওয়ার পর প্রথম ৭ দিনেই সর্বমোট ১৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৭০ টাকা মূল্যের ১১ হাজার ৭৩৪টি বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিক্রি হয়েছে। এবার রেকর্ড সংখ্যক চারা বিক্রি হয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহের মধ্যে শুক্রবার বেশি চারা বিক্রি হয়। তিনি বলেন, দিন যত গড়াচ্ছে, বিক্রিও ততই বাড়ছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেলার প্রথম দিন ১১ জুলাই ফলদ, বনজ, ওষুধি ও শোভাবর্ধনকারীসহ ৩৭০টি চারা বিক্রি হয়, যার বাজারমূল্য ছিল ৫০ হাজার ৮১০ টাকা। ১২ জুলাই ১ হাজার ৯৩টি চারা বিক্রি হয়, যার মূল্য ১ লাখ ৭১ হাজার ৯৬০ টাকা, তৃতীয়দিন ১৩ জুলাই ১ হাজার ১৯টি চারা বিক্রি হয়, যার বাজার মূল্য ছিল ২ লাখ ২১ হাজার ৯৫০ টাকা, ১৪ জুলাই ২ হাজার ২২৫টি চারা বিক্রি হয়, যার বাজার মূল্য ছিল ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৫০ টাকা, ১৫ জুলাই ১ হাজার ৮৭৬টি চারা বিক্রি হয়, যার বাজার মূল্য ছিল ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা। ১৬ জুলাই ২ হাজার ১টি চারা বিক্রি হয়, যার বাজার মূল্য ছিল ৩ লাখ ২ হাজার ৮০০ টাকা। ১৭ জুলাই ৩ হাজার ১৫০টি চারা বিক্রি হয়, যার বাজার মূল্য ছিল ৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

নার্সারি মালিকরা জানান, শুরুর দিকে বৃষ্টির কারণে কিছুটা সমস্যা হলেও এখন বিক্রি বেশ ভালো। বিশেষ করে ফলদ ও ছাদবাগানের উপযোগী বিদেশি জাতের হাইব্রিড চারার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

১১ জুলাই শুরু হওয়া এই মেলা আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন